জীবনযাপন

আড্ডায় নির্বাচন নিয়ে তর্কবিতর্ক এড়াতে চাইলে যা করতে পারেন

January 26, 2026
5 hours ago
By SAJ
আড্ডায় নির্বাচন নিয়ে তর্কবিতর্ক এড়াতে চাইলে যা করতে পারেন

তর্ক এড়াতে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, একটি ছোট, নিরপেক্ষ অজুহাত দেখানো। এতে আপনার অবস্থান পরিষ্কার থাকে, আবার কাউকে অপমানও করা হয় না।

যা বলতে পারেন—

‘একটু ফোন করা দরকার ছিল।’

‘ওই পাশটায় একজনের সঙ্গে কথা বলে আসি।’

‘চা শেষ, আরেক কাপ নিয়ে আসি।’

‘অফিসের একটা কাজ মনে পড়ল।’

তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, যে অজুহাত দেখাচ্ছেন, সেটা অন্তত আংশিক হলেও পালন করুন। ‘চা নিয়ে আসি’ বলে পাশের টেবিলে গিয়ে আবার গল্পে বসে পড়লে বিষয়টা কৃত্রিম লাগে।

হঠাৎ উঠে পড়লে অনেক সময় অপর পক্ষ অপমানিত বোধ করতে পারে। তাই বেরিয়ে যাওয়ার আগে আলোচনাটা সুন্দরভাবে গুটিয়ে নেওয়া ভালো।

ধরুন, কেউ নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা বলছেন। আপনি বলতে পারেন—

‘আপনার কথা বুঝলাম। আসলে বিষয়টা অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।’

তারপর যোগ করুন—

‘একটু ঘুরে আসি, পরে আবার কথা হবে।’

এতে বোঝা যায়, আপনি কথা এড়িয়ে যাচ্ছেন না, শুধু বিরতি নিচ্ছেন।

অনেক সময় আপনি কোথাও যাচ্ছেন, ঠিক তখনই কেউ রাজনৈতিক আলোচনায় জড়িয়ে ধরলেন। সে ক্ষেত্রে বিরক্ত না হয়ে বলতে পারেন—

‘চলেন, হাঁটতে হাঁটতেই কথা বলি। আমি ওই দিকে যাচ্ছিলাম।’

অনেক ক্ষেত্রে এতেই আলোচনা থেমে যায় বা বিষয় যায় বদলে। আর যদি সম্ভব না হয়, সরাসরি কিন্তু ভদ্রভাবে বলুন—

‘আমি এখন একটু ব্যস্ত, পরে কথা বলি।’

সবকিছু মুখে বলতে হয় না। আপনার শরীরী ভাষাও অনেক কিছু জানিয়ে দেয়।

ধীরে ধীরে একটু দূরে সরে দাঁড়ান।

পা বা শরীর অন্যদিকে ঘোরান।

হাসিমুখে মাথা নাড়ুন।

চোখে চোখ রেখে কথা শেষ করুন।

এসব ছোট সংকেত বুঝিয়ে দেয়, আপনি আড্ডা শেষ করতে চাইছেন।

অনেক সময় আত্মীয়স্বজন সরাসরি প্রশ্ন করে বসেন, ‘তুমি কাকে ভোট দেবে’ বা ‘এই নির্বাচন নিয়ে তোমার মত কী’

এমন পরিস্থিতিতে কাজের অজুহাত ভালো কাজ করে। যেমন—

‘এই কথাটা পরে বলি, একটু রান্নাঘরে দেখে আসি।’

‘বাচ্চাটাকে একটু দেখি, পরে কথা হবে।’

হালকা রসিকতা যোগ করলে পরিস্থিতি আরও হালকা হয়।

আলোচনা যদি তর্কে গড়ায় এবং আপনি বুঝতে পারেন রাগ বাড়ছে, তখন থামাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

বলতে পারেন—

‘আলোচনাটা একটু গরম হয়ে যাচ্ছে। আমরা পরে ঠান্ডা মাথায় কথা বলি।’

এতে আপনি নিজের অনুভূতির দায় নিচ্ছেন, কাউকে দোষ দিচ্ছেন না এবং পরিস্থিতিও ঠান্ডা হবে।

নির্বাচন গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আলোচনা হবেই। কিন্তু সব আলোচনা সবার জন্য নয়। নিজের মানসিক শান্তি ও সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখাও জরুরি। তাই কোথায় থামতে হবে, কখন বেরিয়ে আসতে হবে—এসব কৌশল জানা থাকলে আড্ডা যেমন থাকবে, তেমনি তর্কও এড়ানো যাবে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট