বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত: আইসিসির সভা শুরু
কিছুক্ষণ আগে শুরু হয়েছে আইসিসির ভার্চুয়াল সভা, যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
পিসিবি চেয়ারম্যান, মহসীন নাকভি, বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া সহ অন্যান্য বোর্ডের প্রতিনিধিরাও আছেন সভায়।
আইসিসির প্রতিনিধিত্ব করছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী, হেড অব ইভেন্টস ও লিগ্যাল অফিসার।
যতটুকু বোঝা যাচ্ছে যে, আজ বিকালে (সম্ভাব্য বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা) আইসিসির বোর্ড সভায় নিরাপত্তার কারণে ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার ব্যাপারে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান এবং তাদের প্রতি পিসিবির সমর্থনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাকি সদস্যদের কাছে তুলে ধরবে আইসিসি। আইসিসির বোর্ড হচ্ছে আইসিসির ‘অ্যাপেক্স বডি’। বাংলাদেশের বিষয়টি নিয়ে আইসিসির কারও এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। বোর্ড সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। সেখানে পিসিবি ছাড়া অন্যান্য বোর্ডেরও সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানানোর।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মাহমুদের নিচের লেখাটি
ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিতে চিঠি দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, বিসিবির প্রস্তাব মেনে আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে না সরালে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের দাবি মানা না হলে পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করলেও করতে পারে। পিসিবি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ রকম কিছু না বললেও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, আইসিসিকে মৌখিকভাবে এই অবস্থানের কথা জানিয়ে রেখেছে পিসিবি।
কীভাবে পিসিবি এই ঘটনার সঙ্গে জড়াল, তাদের অবস্থান কী, ধারণা পেতে পড়তে পারেন নিচের লেখাগুলো
বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে, কিন্তু বরফ গলেনি। অন্যদিকে, ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি-ও তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরছে না; তারা কোনোভাবেই ভেন্যু পরিবর্তন করতে রাজি নয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে, যেখানে প্রত্যেকেই নিজ নিজ যুক্তিতে অনড় থেকেছে। বিসিবি বারবার তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানও বেশ শক্ত। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রকাশ্যেই বলেছেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) চাপে পড়ে আইসিসির কোনো অন্যায্য সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ মেনে নেবে না। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করেনি। বরং বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। অতীতেও এমন নজির আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই দাবি মর্যাদার লড়াই।
এই টানাপোড়েনের মাঝে আরও যা যা ঘটেছে, জানতে পড়তে পারেন নিচের লেখাগুলো
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে এই টানাপোড়েনের শুরু। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ধর্মীয় কিছু গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে বাংলাদেশের পেসারকে দল থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।
পাল্টা জবাবে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে আগামী মাসের বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার ঘোষণা দেয় বিসিবি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে আইসিসিকে চিঠি পাঠায় তারা।
বাংলাদেশ কি শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে?
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আজই মিলতে পারে। বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো শক্ত অবস্থানে। এই অচলাবস্থা নিরসনে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে বুধবার একটি বোর্ড সভা ডেকেছে আইসিসি। ধারণা করা হচ্ছে, এই সভাতেই আসতে পারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত।