জীবনযাপন

থানকুনি–পাতার ১০টি উপকারিতা, সঙ্গে জানুন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

January 26, 2026
4 hours ago
By SAJ
থানকুনি–পাতার ১০টি উপকারিতা, সঙ্গে জানুন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, থানকুনি স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে স্ট্রোকের পর স্মৃতিভ্রংশ বা মনোযোগের সমস্যায় কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাণীর ওপর করা গবেষণায় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর উপকারিতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

আলঝেইমার্স রোগে স্মৃতি ও স্নায়ুর ক্ষতি হয়। পরীক্ষাগার ও প্রাণীর ওপর করা কিছু গবেষণায় থানকুনি মস্তিষ্ককোষকে ক্ষতির হাত থেকে আংশিকভাবে রক্ষা করতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসার বিকল্প—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা দরকার।

থানকুনির একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো, এটি স্নায়ুকে শান্ত করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাবে সৃষ্ট উদ্বেগ কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। তাই হালকা দুশ্চিন্তা বা মানসিক অস্থিরতায় অনেকেই এটি ব্যবহার করেন।

থানকুনি মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে ধারণা করা হয়। সীমিত পরিসরের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি বিষণ্নতার কিছু উপসর্গ যেমন মন খারাপ, অস্থিরতা কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা ভ্রমণের কারণে অনেকের পা ও গোড়ালি ফুলে যায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, থানকুনি শরীরে তরল জমে থাকা কমাতে এবং রক্তসঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। ভ্যারিকোজ ভেইনের ক্ষেত্রেও এর কিছু উপকার লক্ষ করা গেছে।

যাঁদের অনিদ্রার পেছনে দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ কাজ করে, তাঁদের ক্ষেত্রে থানকুনি কিছুটা আরাম দিতে পারে। যদিও এ বিষয়ে গবেষণা এখনো সীমিত, তবে লোকজ চিকিৎসায় ঘুমের সমস্যায় থানকুনির ব্যবহার নতুন নয়।

গর্ভাবস্থা বা দ্রুত ওজন বাড়া–কমার ফলে শরীরে যে স্ট্রেচ মার্ক পড়ে, সেসব কমাতে থানকুনি উপকারী হতে পারে। এতে থাকা কিছু উপাদান ত্বকে কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে বলে ধারণা করা হয়।

প্রাণীর ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, থানকুনি ক্ষত দ্রুত শুকাতে এবং দাগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই ছোটখাটো কাটাছেঁড়ায় থানকুনিসমৃদ্ধ মলম ব্যবহার করা হয়।

থানকুনির প্রদাহনাশক গুণ আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাত বা জয়েন্টের প্রদাহে এটি ব্যথা ও ক্ষয় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ওষুধের কারণে লিভার ও কিডনিতে যে বিষক্রিয়া তৈরি হয়, থানকুনি তা কিছুটা কমাতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এই ফল নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

পাতা বা শাক হিসেবে: অল্প পরিমাণে ভাজি, ভর্তা বা সালাদে

চা বা রস: পাতার রস বা শুকনো পাতা দিয়ে চা

ক্যাপসুল/এক্সট্র্যাক্ট: চিকিৎসকের পরামর্শে।

ত্বকে ব্যবহারে: থানকুনিযুক্ত ক্রিম বা মলম (আগে প্যাচ টেস্ট জরুরি)

সাধারণত থানকুনি নিরাপদ হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, পেটের অস্বস্তি বা মাথা ঘোরা হতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা নারী, লিভারের রোগী, শিশু কিংবা যাঁদের শিগগিরই অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবহার না করাই ভালো।

থানকুনির পাতা আমাদের পরিচিত একটি ভেষজ, যার উপকারিতা নিয়ে আধুনিক গবেষণাও আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিয়মিত বা দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: ওয়েবএমডি